Showing posts with label ছড়া. Show all posts
Showing posts with label ছড়া. Show all posts

Saturday, 19 February 2022

ভুতেদের থেকে সাবধান

শুনো না অপপ্রচার,
ভূতপেত্নিরা মানুষ পেলেই
মটকে দেয় না ঘাড়।
                                        তা বলে ভেবো না যেন
                                        অশরীরীদের হেলাফেলা করে
                                        পার পাবে কক্ষনো।
বাজে যবে রাত আটটা
পেত্নী রানিকে সেলাম না দিলে
খেতে হয় রামগাঁট্টা।
                                        আছে সে কন্ধকাটা,
                                        হাসো যদি দেখে মাথা ছাড়া টুপি
                                        মেরে যাবে ঠিক চাঁটা।
কোরো নাকো যেন ভুল,
নিশির গানকে সাবাসি না দিলে
ছিঁড়ে নিতে পারে চুল।                                   
                                        থেকো খুব সাবধান,
                                        ব্রহ্মদত্যি প্রণাম না পেলে
                                        মুলে দেয় দুই কান।
হয়ো নাকো অজ্ঞান
শাঁকচুন্নির হাসি শুনে কভু,
চিমটিতে যাবে প্রাণ।
 
                                        মামদো ভূতের দাড়ি
                                        ভুল করে কভু ছিঁড়ে দাও যদি
                                        পিঠে পড়বেই বাড়ি।
বলে রাখি আগভাগ,
পান থেকে চুণ খসলে পরেই
ভূতেদের জাগে রাগ।
                                        অশরীরীদের গুণ
                                        নাই গাও যদি, মুখেতে তেনারা
                                        দেবেন কালি ও চুণ।
 
(প্রকাশ একপর্ণিকা শারদীয় সংখ্যা  ১৪২৮) 



Sunday, 24 October 2021

 

বিষম চিন্তা

– সুকুমার রায়

মাথায় কত প্রশ্ন আসে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার-

সবাই বলে, মিথ্যে বাজে বকিস নে আর খবরদার!

অমন ধারা ধমক দিলে কেমন করে শিখব সব?

বলবে সবাই মুখ্য ছেলে, বলবে আমায় “গো গর্দভ!”

কেউ কি জানে দিনের বেলায় কোথায় পালায় ঘুমের ঘোর?

বর্ষা হলেই ব্যাঙের গলায় কোথেকে হয় এমন জোর?

গাধার কেন শিং থাকে না, হাতির কেন পালক নেই?

গরম তোলে ফোড়ন দিলে লাফায় কেন তাধেই-ধেই?

সোডার বোতল খুললে কেন ফঁসফঁসিয়ে রাগ করে?

কেমন করে রাখবে টিকি মাথায় যাদের টাক পড়ে?

ভুত যদি না থাকবে তবে কোত্থেকে হয় ভূতের ভয়?

মাথায় যাদের গোল বেধেছে তাদের কেন “পাগোল” কয়?

কতই ভাবি এসব কথা, জবাব দেবার মানুষ কই?

বয়স হলে কেতাব খুলে জানতে পাব সমস্তই।

 

 

চিন্তামুক্তি

ছোট্টবেলার প্রশ্ন যত ছিল মাথার মধ্যে মোর,

কেতাবে নয়, গুগল করে পেয়েছি তার সদুত্তর।

দিনের বেলা ঘুমের ঘোর ঠাঁই করে নেয় দপ্তরে,

বড়বাবুর টেবিলে আর অফিসারের চেম্বারে।

বর্ষাকালে ব্যাঙগিন্নি বাড়িয়ে যে দেয় গলার জোর,

কারণ সুপুত্রটি তখন হয়েছে এক মস্ত চোর।

গাধা নিজেই ভাঙল শিং নিতে বাছুর ছদ্মবেশ,

গরু বলে ডাকলে তাকে থাকে না তার খুশির শেষ।

ডেন্টিস্টের ভিজিট দিয়ে হয় যখনি খালি ট্যাঁক,

পালক বেচে কেনে হাতি টুথপেস্টের ট্রিপল প্যাক।

গরম তেলে পড়লে ফোড়ন নাচে কেন তাধেই-ধেই ,

গ্রীষ্মকালে খালি পায়ে উঠলে ছাদে টের পাবেই।

খুললে ছিপি সোডার বোতল একটু না হোক ফঁসফঁসায়,

কাঁচা ঘুম ভাঙিয়ে দিলে রাগ করা কি দোষের হয়?

টাক পড়ছে মাথায় না হয় টিকি নিয়ে চিন্তা কি,

পরচুলার দোকানেতেই মিলছে এখন পরটিকি।

ভূতপেত্নি নেই বলে কি থাকবে নাকো ভূতের ভয়?

হোমিওপ্যাথির ওষুধ তবে কেমন করে রোগ সারায়?

চৌকোনো বা তিনকোণা কি মাথার মাপ কভুও হয়?

গোল মাথাতো সবারই, তাই মাথার গোলে পাগোল কয়।

যার যেমনই প্রশ্ন আছে গুগল জানে জবাব তার,

এমন দিন কি কল্পনাতেও দেখেছিলেন সুকুমার?

                             গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় 



Sunday, 16 May 2021

ভ্যাক্সিনমঙ্গল

 

ভ্যাক্সিনমঙ্গল

কোভ্যাক্সিন প্রাপক ছাড়িল নিশ্বাস,

'কোভিশিল্ডের পরে আমার বিশ্বাস।'

কোভিশিল্ড গ্রাহক বলে, 'কিছু জানিনে,

আমার ভরসা ছিল কোভ্যাক্সিনে।'

হেনকালে কোথা হতে রাশিয়ার টিকা

বাজার উজল করে দিল সে যে দেখা।

টিকা যারা নিয়েছিল মে মাসের আগে,

স্পুটনিক দেখে তারা গজরায় রাগে।

সেকরার ঠুকঠাক ভ্যাক্সিন যত,

মার্কেটে নাহি কেহ জনসন মতো।

এক ডোজে করোনারে করে কুপোকাত,

J & J সে কি করে বাজিমাত?

ধরাধাম মাঝে টিকা আছে কত শত,

গ্যাপ পাল্টায়ে না কোভিশিল্ড মতো।

এই শুনি ফোর উইক্স, এই শুনি ছয়,

আট বারো ষোল কুড়ি যা খুশি তা হয়।

মার্কিন মডার্না কি ফাইজার টিকা

বাঙালির কপালে নাই তারা লিখা।

ভ্যাক্সিনমঙ্গল কথা অমৃতের পারা,

ফেসবুকে অকবি সে লিখে চলে ছড়া।


Monday, 19 October 2020

Sunday, 9 August 2020

লিমেরিক (অনুবাদ)

লিমেরিক (অনুবাদ)

গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় 

এই লিমেরিকের অনুবাদগুলো ম্যাজিক ল্যাম্প ওয়েব পত্রিকার জুলাই ২০২০ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এই লিঙ্কে পাওয়া যাবে। নিচে মূল ইংরাজি আর তার বাংলা অনুবাদগুলো তুলে দিলাম। অনুবাদে কিছুটা স্বাধীনতা নিয়েছি। একটা মূল ছড়া অবশ্য লিমেরিকই নয়। 

There was an Old Man with a beard,

Who said, "It is just as I feared!—

Two Owls and a Hen, 

Four Larks and a Wren,

Have all built their nests in my beard. 

(Edward Lear)

 

মাথা নেড়ে বুড়ো বলে, ‘যা ভেবেছি তাই,

পাখিদের বাসা হল মোর দাড়িটাই!

পেঁচা আছে দুইখানি,

মুরগিও আছে জানি,

শেষে কিনা এসে জোটে শালিক চড়াই!’

 

“A wonderful bird is the Pelican.

His beak can hold more than his belly can.

He can hold in his beak

Enough food for a week!

But I'll be darned if I know how the hellican?”

(Dixon Lanier Merritt)

 

পেলিক্যান পাখি এসে আমারে শুধায়,

‘বলো এই ঝামেলায় কী করি উপায়?

ঠোঁটে মোর যা ধরে

আঁটে না তা উদরে,

এত মাছ রাখি কোথা পড়েছি এ দায়।’

 

There was a young lady named Bright

Whose speed was far faster than light;

She set out one day

In a relative way

And returned on the previous night.

(A. H. Reginald Buller)

 

কন্যে ছোটেন আলোর থেকে জোরে,

বেরিয়েছিলেন রবিবারের ভোরে

আইনস্টাইন মেনে

চলেন পিছন পানে,

পৌঁছে গেলেন আগের শনিবারে।

 

There once were two cats of Kilkenny,

Each thought there was one cat too many,

So they fought and they fit,

And they scratched and they bit,

Till, excepting their nails

And the tips of their tails,

Instead of two cats, there weren't any.

(Traditional)

 

দুইটি বিড়াল ছিল কলকাতা নগরে।

দুজনেই ভেবেছিল, ‘আমি একা রব রে।’

বিল্লির ঝগড়ায়

কান পাতা হল দায়,

চিহ্ন শেষেতে শুধু লেজে আর নখরে।

 

Thursday, 2 April 2020

ছড়াঃ সময় গাড়ি


     সময় গাড়ি
     গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়

ইতিহাসে গোল্লা পেয়ে বানিয়ে সময় গাড়ি
ক্লাস সেভেনের রুম্পি দিল অতীতকালে পাড়ি।
একজামিনের খাতা খুলে
মেলাবে আজ চক্ষু মেলে,
কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক দেখবে তাড়াতাড়ি।

শশাঙ্ক কি ছিলেন নাকো হরপ্পারই রাজা?
আকবর কি দেননি তবে কণিষ্ককে সাজা?
কলম্বাস কি জাহাজ চড়ে
যাননি প্রথম বাঙ্গালোরে?
চন্দ্রগুপ্ত বানাননি কি বুলন্দ দরওয়াজা?

তক্ষশিলা ছিল না কি সিংহল রাজধানী?
ভিক্টোরিয়া নন কি সেই মিশর দেশের রাণী?
এসব কেটে দিদিমণি
শূন্য দিলেন কেন জানি,
রুম্পি ভাবে, নিজের চোখে দেখলে তবেই মানি।

সময় গাড়ির কাঁটাখানা করতে গিয়ে সেট
হাজারে আর মিলিয়নে গুলিয়ে গুবলেট।
দরজা খুলে যেই বেরোনো
ডাইনোসরের দাঁত খিঁচানো,
বাপরে বলে টাইম ডায়াল করল যে রিসেট। 

নিজের যুগে ফেরত গেল একটি লহমায়।
মা ডাকল, রুম্পি সোনা, ব্যাগ গোছাবি আয়।
থাক না ল্যাবে ঘাঁটাঘাঁটি,
পড়ে গেছে পুজোর ছুটি,
শনির রকেট ছাড়বে কাল সকালে পাঁচটায়।

প্রকাশঃ একপর্ণিকা, এপ্রিল ২০১৯, সামান্য পরিবর্তিত




Sunday, 12 August 2018

ছড়া

ছড়াগুলো নানা পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। অনেক সময় তা কোনো ছড়ার জবাবে।

গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়

ম্যাজিক ল্যাম্প পত্রিকার এক বছরের জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা

জাদু প্রদীপ ঘষে দেখি গল্প নয়কো, সত্যি।
আমার ঘরে এসেছে আজ আলাদিনের দত্যি!
দুই হাতেতে ভরা যে তার
ছড়া ছবি গল্প হাজার,
খাঁটি সোনামাণিক সে সব, নয় ঝুটো একরত্তি।


এমএসসির বন্ধুদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ভূতচতুর্দশী উপলক্ষে লেখা কবিতার প্রত্যুত্তরে

পেত্নি সাথে সেল্ফি তোলা খারাপ তো নয় ভাই
এমএসসি তে ছিলেন যাঁরা কাউকে যদি পাই।
না হয় যাবো গুগল খুজে তেপান্তরের মাঠে
মামদো শ্বশুর মানি যদি পেত্নি তেমন জোটে।

একপর্ণিকা ওয়েব পত্রিকায় সুস্মিতা কুণ্ডু এই ছড়াটা লিখেছিল।

আমি সুস্মিতার সঙ্গে কথা বলে কমেন্টে এই ছড়াটা পোস্ট করি।

ভূতগুলো সব গেল কোথায়?

রিয়াল ছেড়ে ভার্‌চুয়ালে 
এলো ভূতের দল,
ওঝার আপদ নেই সেখানে,
নেই মন্ত্রের বল।

সেথায় দেশি বিদেশি ভূত
করছে ঘেঁষাঘেঁষি,
ড্রাকুলা আর ব্রহ্মদত্যি
বসল পাশাপাশি।

ব্যানশী ভূতে নিশিরে কয়,
দেখা গলার জোর,
স্কন্ধকাটা জম্বি মিলে
খেলে গোলামচোর।

পেত্নি খোঁজে স্নো পাউডার
ব্লাডি মেরির কাছে,
ক্যাসপার আর একানড়ে
চড়তে গেল গাছে।

ডাকিনী কয় আমি উইচ,
যোগিনী কয় আমি,
বাবা ইয়াগা বলে এবার
থামাবি পাগলামি?

পত্রিকাতে ভূতের ভয়ে
পালায় এডিটর,
ওয়েব ছেড়ে গায়েব হল,
ফিরল নাকো আর।

ভূতেরা আমার পিছু ছাড়ছে না। দাদাগিরি অনুষ্ঠানে কেউ একজন কেমন করে ভূতের খোঁজ পাওয়া যায়, তা বর্ণনা করেছিলেন। ফেসবুকে সেই সম্পর্কে পড়ে এটা লেখা।

ভুত পেত্নী নেই বলে কি
শুনব নাকো গল্প?
ভয় পেতে তো ভালোইবাসি
কেউ বেশি কেউ অল্প।
কেশবতী রাজকন্যার
কুঁচবরণ চুল,
গল্প জানি, পড়তে তবু
হয়না কোনো ভুল।
উদরহীনের খিদে তেষ্টা,
কায়াহীনের মাথা,
নাক নেইকো, আছে শুধু
খোনাসুরের কথা।
গল্পে থাকুন ভুত পেত্নী
থাকুন দত্যি দানো,
সেসব কথা শুনতে মোদের
আপত্তি নেই কোনো।
রিসিভারে পড়েন ধরা,
ছায়া ফেলে লেজার,
এমন ভূতের গল্প শুনে
পাচ্ছে হাসি দেদার।
রাতের বেলার অন্ধকারে
তেনারা নেই জানি,
মনের ভিতর থেকেই হয়
ভূতপ্রেত আমদানি।