Saturday, 9 December 2017

নারীজাগরণে রোকেয়া

নারীজাগরণে রোকেয়া
শম্পা গাঙ্গুলী

      আজকের নিবন্ধে আমি ছাত্রীদের কাছে এমন একজন স্বতন্ত্র সাহসী মনের পরিচয় তুলে ধরতে চাই যিনি তাঁর একক প্রয়াসে বাঙালী মুসলমানের অন্তঃপুরে আধুনিক শিক্ষার আলো যতখানি পৌঁছে দিয়েছেন, আঘাত দিয়ে জড়তা কাটিয়ে দিতে চেয়েছেন সমাজের বিবেকের কর্মচেতনাকে জাগাবার চেষ্টায় - তেমনটা এই একশো বছরে বাঙালী মুসলমান নারীদের জন্য আর কেউ করেননি।
      রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা আজ তোমাদের বলব। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।  বাবা জাহিরুদ্দিন মহম্মদ আবু আলি হায়দার সাবের ছিলেন একজন উচ্চশিক্ষিত সম্ভ্রান্ত জমিদার। রোকেয়ার মায়ের নাম রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরাণী। রোকেয়ার জীবনে তাঁর বড় ভাই ইব্রাহিম আর বড় বোন করিমুন্নিসার প্রভাব ছিল অনেকখানি। তখনকার উচ্চবংশের মুসলমানদের মধ্যে আরবি ও পারসির বাইরে অন্য কোনো ভাষা শিক্ষা একটা দুরূহ ব্যাপার ছিল। সে সময়ের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আধুনিকমনস্ক বড় ভাই ইব্রাহিম তাঁর দুই বোন রোকেয়া আর করিমুন্নিসাকে গোপনে বাংলা ও ইংরাজি ভাষা শেখান। করিমুন্নিসা পরে বাংলাতে কবিতা লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।  
      ১৮৯৬ সালে ষোলো বছর বয়সে রোকেয়ার বিয়ে হয় একজন চল্লিশ বছর বয়সী উচ্চশিক্ষিত উর্দুভাষী মুসলমান খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। তিনি তখন পরাধীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের ভাগলপুর জেলার (বর্তমান বিহারের অন্তর্গত) ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। তিনি ছিলেন খুবই উদার মনোভাবাপন্ন এবং নারী শিক্ষা প্রসারে উৎসাহী। তখনকার কট্টর মুসলমান সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়েও তিনি তাঁর স্ত্রীকে বাংলা ও ইংরাজি ভাষা  শিখতে এবং বাংলা ভাষায় প্রবন্ধ লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। রোকেয়ার ভেতর যে সুপ্ত প্রতিভা ছিল তার আবিষ্কার ও প্রকাশে স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।
রোকেয়া শুরু করলেন সাহিত্য চর্চা। ১৯০২ সালে লিখলেন তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পিপাসা’। এরপর ১৯০৫ সালে ‘মতিচুর’ তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা হল ‘Sultana’s Dream’  যার অনুদিত রূপ  ১৯০৮ সালে ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে বই প্রকাশিত হয়। এই বইটিকে বাংলার তথা বিশ্বের নারীবাদী সাহিত্যের একটি মাইলফলক ধরা হয়। ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ‘পদ্মরাগ’ উপন্যাস। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয় ‘অবরোধ-বাসিনী’।
      বাংলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষাবিদ বেগম রোকেয়ার অবদান অনস্বীকার্য তিনি ছিলেন একাধারে বঙ্গ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নারীবাদী লেখক সমাজ-সংস্কারক নারী শিক্ষার প্রসার ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তিনি লিখে গেছেন শক্ত হাতে মেয়েদের জন্য বেশকিছু স্কুল স্থাপন করেছেন অনেক দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে এসব স্কুলে মেয়েদের নিয়ে আসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে অভিভাবকদের অনুরোধ করেছেন যাতে তারা মেয়েদের স্কুলে পাঠান এমনকি মেয়েদের নিরাপত্তা পর্দার নিশ্চয়তা দিতে বেগম রোকেয়া ফিটন গাড়ি (ঘোড়ার গাড়ি) মোটর বাসের ব্যবস্থা করেছিলেন গাড়িগুলো সম্পূর্ণভাবে পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকত তার পরও রক্ষণশীলরা যখনই সুযোগ পেয়েছে, বেগম রোকেয়াকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি
      তাঁর কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৯১১ সালে কলকাতায় মাত্র আটজন ছাত্রী নিয়ে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা। ১৯১৫ সালে পঞ্চম শ্রেণি শুরু হল স্কুলে। স্কুলটি উচ্চ প্রাইমারি বিদ্যালয়ে উন্নীত হল। ছাত্রী সংখ্যাও বাড়তে বাড়তে হল চুরাশি। ১৯২৭ সালে তাঁর স্কুলটি উচ্চ ইংরাজি বিদ্যালয়ে পরিণত হল। কিন্ডারগার্ডেন শাখারও প্রবর্তন ঘটল। ছাত্রী সংখ্যাও বাড়ল। বেগম রোকেয়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন অনুজপ্রতিম শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং সংসদ সদস্য শামসুন্নাহার মাহমুদ তার বাবা ফজলুল করিম সে সময় পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মধ্যে প্রথম স্নাতক
      রোকেয়ার শিক্ষার আদর্শ কিন্তু একেবারেই রক্ষণশীল ছিল না, ছিল আধুনিক। তিনি তাঁর সমাজের থেকে বহুগুণ অগ্রসর ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য শারীরিক ব্যায়াম চর্চার প্রয়োজন; আর প্রয়োজন বিশুদ্ধ বাতাসের।’ আজকে আমরা যে সর্বাঙ্গীণ শিক্ষার কথা বলি, রোকেয়ার কথাতে তার প্রতিধ্বনি শোনা যায়।  
       রোকেয়া ছিলেন ভারতবর্ষের সর্বপ্রথম আমূল নারীবাদী এক মহান নারী ব্যক্তিত্ব। তাঁর সময়ে নারীদের এতই করুণ দশা ছিল যে তিনি নারীকে নিকৃষ্ট জীবের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। বলেছিলেন- “আপনারা শুনিয়া হয়ত আশ্চর্য্য হইবেন যে,  আমি আজ বাইশ বৎসর ধরিয়া ভারতের সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট জীবের জন্য রোদন করিতেছি। ভারতের সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট জীব কাহারা জানেন? সে জীব ভারত-নারী। এই জীবগুলির জন্য কখনো কাহারো প্রাণ কাঁদে নাই। পশুর জন্য চিন্তা করিবারও লোক আছে। তাই যত্র-তত্র পশুক্লেশ নিবারণী সমিতি দেখিতে পাই। কিন্তু আমাদের ন্যায় অবরোধ-বন্দিনী নারী জাতির জন্য কাঁদিবার একটি লোকও এ ভূভারতে নাই।” তখন মুসলমান নারীর জন্য শিক্ষার্জন নিষিদ্ধ ছিল, এবং অবরোধ-বন্দী নারীকে ঘরের মধ্যেও অপর নারীর সামনে পর্দা করতে হত। সেই বীভৎস অবরোধ প্রথার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা তিনি এভাবে করেন- “জমিদার বাড়িতে এক জমিদার কন্যা দুপুরবেলা আঙিনায় মুখ ধুইতেছিলেন। আলতার মা পাশে দাঁড়িয়া জল ঢালিয়া দিতেছিল। ঠিক সেই সময় এক লম্বা চওড়া কাবুলি স্ত্রীলোক আঙিনায় আসিয়া উপস্থিত। হায় হায় সে কি বিপদ! আলতার মা চেঁচাইয়া উঠিল- বাড়ির ভিতর পুরুষ মানুষ! স্ত্রীলোকটি হাসিয়া জানাইল-- সে পুরুষ নয়। জমিদার কন্যা প্রাণপণে ঊর্ধ্বশ্বাসে গৃহাভ্যন্তরে ছুটিয়া গিয়া হাঁপাইতে হাঁপাইতে ও কাঁপিতে কাঁপিতে বলিলেন-- পাজামা-পরা একটা মেয়েমানুষ আসিয়াছে। গৃহকর্ত্রী ব্যস্তভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন-- সে তোমাকে দেখিয়া ফেলে নাই তো? কন্যা সরোদনে বলিল-- হ্যাঁ দেখিয়াছেঅপর মেয়েরা শশব্যস্তভাবে দ্বারে অর্গল দিলেন। কেহ বাঘ ভাল্লুকের ভয়েও বোধ হয় এমন করিয়া কপাট বন্ধ করে না।‘ এমন অন্ধকারে ডুবে ছিল রোকেয়ার ভারতবর্ষ। সেই নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের বুক চিরে তিনি নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের দীপশিখাটি প্রজ্বলিত করেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল নারীদের স্বাবলম্বন। তিনি দাবি জানিয়েছিলেন যে, নারীকে দিতে হবে শিক্ষার্জনের ও অর্থোপার্জনের অধিকার। তিনি পুরুষজাতির চোখে চোখ রেখে ঘোষণা করেছিলেন --- পুরুষের ঘর-সংসার করাই কেবল নারীর সারধর্ম নয়, নারী তার বুদ্ধি, মেধা, প্রজ্ঞা ও শ্রম দিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে এবং দেশকে নেতৃত্ব প্রদান ও পরিচালনার দায়িত্ব পালনে সক্ষম। তিনি দাবি করেছিলেন পুরুষের সমকক্ষতা এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকার। তিনি ‘স্বামী’ শব্দের তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, নারী পুরুষকে তার স্বামী (প্রভু) মানবে কেন? স্বামী আর বলবে না, ‘স্বামী’র পরিবর্তে পুরুষকে অর্ধাঙ্গ বলবে। এই ছিল রোকেয়ার নারী-স্বাধীনতা আন্দোলনের আসল রূপ, যা ছিল পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ।  
তিনি কার্যত বিদ্রোহ করেছিলেন নারীর প্রধান শত্রু ধর্মের বিরুদ্ধেও। সকল ধর্মগ্রন্থই পুরুষ দ্বারা রচিত বলে পৃথিবীর সকল ধর্মকেই নস্যাৎ ও অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে প্রচলিত ধর্মই যে নারীর দাসত্ব বন্ধন দৃঢ় হতে দৃঢ়তর করেছে। তিনি সে কথা মহিলা পত্রিকায় অলঙ্কার না Badge of Slavery’  প্রবন্ধে বলিষ্ঠ ভাষায় লিখেছিলেন। মুসলিম সমাজ ও পিতৃতান্ত্রিক সমাজে ভূকম্পন সৃষ্টিকারী তাঁর সেই  দুঃসাহসিক কথাটি এরূপঃ “‘ধর্মই আমাদের দাসত্ব বন্ধন দৃঢ় হতে দৃঢ়তর করিয়াছে, ‘ধর্মের দোহাই দিয়া পুরুষ রমণীর উপর প্রভুত্ব করিতেছেন।”
      রোকেয়া তাঁর জন্মভূমিকে ভালবেসেছিলেন, ভালবেসেছিলেন তাঁর দেশের মানুষকে। তিনি মায়েদের বলতেন,সন্তানকে আগে শেখাতে হবে সে ভারতবাসী, তারপর আসে ধর্মের পরিচিতি। দেশের উন্নতির জন্য হিন্দু মুসলমানের মিলনের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেছিলেন।  তাঁর সৌভাগ্য যে তিনি ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ দেখে যাননি। বিশেষ করে বাঙালী মুসলমানদের মধ্যে নারী শিক্ষার বিস্তারে তিনি যে জীবন উত্সর্গ করেছিলেন, তার মূলে তাঁর এই ভালবাসা। এক বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, মুসলমানদের যাবতীয় দৈন্য-দুর্দশার একমাত্র কারণ স্ত্রীশিক্ষায় ঔদাস্য।  কিন্তু তাঁর দৃষ্টি শুধুমাত্র শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কৃষির উন্নতি, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, শিল্পোন্নয়ন, এই সমস্ত বিষয়ে তিনি প্রবন্ধ লিখেছিলেন।

তিনি তাই প্রাতঃস্মরণীয় এক ভারতীয় মনীষী, আমাদের বাঙালী জাতির গর্ব

Saturday, 2 December 2017

শতবর্ষে বিজ্ঞানী অসীমা চট্টোপাধ্যায়

অগ্রণী মহিলা বিজ্ঞানী অসীমা চট্টোপাধ্যায়
গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়

       আমরা যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজারে অবস্থিত বিজ্ঞান কলেজে পড়াশোনা শুরু করেছিলাম, রসায়ন বিভাগে এক অধ্যাপিকাকে দেখলাম। স্পষ্টতই তাঁর অনেক বয়স, কিন্তু নিয়মিত আসেন, সারা দিন ল্যাবরেটরিতে থাকেন, কাজ করেন। প্রথম প্রথম অবাক হয়ে ভাবতাম এত বয়স, এখনো অবসর নেননি? পরে এক বন্ধু চিনিয়ে দিল, অনেক আগে থেকেই তাঁর নাম শুনেছিলাম, তিনিই অসীমা চট্টোপাধ্যায়। তার পরেও দীর্ঘদিন তিনি নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে এসেছেন, কাজ করেছেন। কখনো কখনো তাঁর সঙ্গে আমার দু-একটা কথাও হয়েছে। তাঁর জন্মশতবর্ষে তাঁকে নিয়েই এই প্রবন্ধ। শিরোনাম দেখে কেউ যেন ভুল না করেন যে  অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের বিজ্ঞান জগতে খ্যাতির অন্যতম কারণ তিনি মহিলা। তাঁর গবেষণা যে কোনো পুরুষ বিজ্ঞানী করলেও তিনি একই সুনাম অর্জন করতেন। কিন্তু সন্দেহ নেই বিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি পেতে তাঁকে পুরুষদের থেকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছিল। আজও আমাদের দেশে বিজ্ঞানীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আধুনিক ভারতের বিজ্ঞানে যে মহিলারা প্রথম নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিলেন, অসীমা তাঁদের মধ্যে বহুক্ষেত্রেই প্রথম।
       বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ ইন্দ্রনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ও  কমলা দেবীর জ্যেষ্ঠা কন্যা অসীমার জন্ম হয়েছিল ১৯১৭ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর। অসীমা এবং তাঁর ভাই ডাক্তার সরসীরঞ্জন মুখোপাধ্যায় দুজনেই গবেষণাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর হিসাবে ভারতে বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মান ভাটনগর পুরস্কার অর্জন করেন –ভারতের ইতিহাসে এই উদাহরণ আর নেই। অসীমা বেথুন কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৩২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। দু বছর পরে সেখান থেকে আইএসসি পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হনদুটি পরীক্ষাতেই তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃত হিসাবে তিনি সরকারি বৃত্তি পেয়েছিলেন। তাছাড়াও পেয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব লতিফ এবং ফাদার লাফোঁর নামে বৃত্তি এবং হেমপ্রভা বসু স্মারক পদক।

অসীমা চট্টোপাধ্যায় (২৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৭ -- ২২ নভেম্বর ২০০৬)
       এরপর অসীমা ভর্তি হন স্কটিশ চার্চ কলেজে। সে সময় একমাত্র এই কলেজেই মেয়েদের রসায়নে অনার্স পড়ার সুযোগ ছিল। পরিবারের থেকে আপত্তি ছিল,  কারণ ওই কলেজে ছেলে মেয়েরা একত্রে পড়াশোনা করত। সেই সময়ের সামাজিক পরিবেশের কথা চিন্তা করলে আমরা বুঝতেই পারি যে অসীমার এই সিদ্ধান্ত তাঁর দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। এ কাজে তাঁর সহায় হয়েছিলেন মা কমলা। রসায়ন অনার্সে তিন জন পড়ুয়ার মধ্যে একমাত্র মেয়ে অসীমা। ১৯৩৬ সালে স্বর্ণপদক সহ অনার্স পাস করে মায়ের বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছিলেন অসীমা। দু বছর পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে এমএসসিতে দ্বিতীয় স্থান।
       আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের মধ্যমণি। তাঁর উৎসাহে জৈব রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করছেন অধ্যাপক প্রফুল্লকুমার বসু, তাঁরই তত্ত্বাবধানে অসীমা কাজ শুরু করলেন – তাঁর লক্ষ্য ভেষজ উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব যৌগের রাসায়নিক গঠন নির্ণয়। অসীমা বুঝতেই পেরেছিলেন যে ভারতবর্ষে ভেষজ উদ্ভিদের প্রাচুর্য আছে, তাই এ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ প্রচুর। গবেষণার মধ্যেই তিনি ব্রেবোর্ন কলেজে অধ্যাপিকা হিসাবে যোগদান করেন এবং তাঁর হাত ধরেই ঐ কলেজে রসায়ন বিভাগের পথচলা শুরু হয়। ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা হিসাবে ডিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই বছরই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা পারিশ্রমিকে পড়ানো শুরু করেন। ১৯৪৫ সালে  শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক বরদাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হনতাঁদের একমাত্র কন্যা জুলি, তিনিও মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জৈব রসায়ন বিষয়েই গবেষণা করেছেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
       ১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ – এই তিন বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা ক্যালটেক এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখে উচ্চতর গবেষণার জন্য কাটান অসীমাজুরিখে তিনি নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী পল কারেরের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সর্বত্রই একই বিষয়ে অর্থাৎ ভেষজ উদ্ভিদ সংক্রান্ত জৈব রসায়ন। দেশে ফিরেও গবেষণাতে ভাঁটা পড়েনি। ১৯৫৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে রিডার পদে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে হলেন ওই বিভাগেই খয়রা অধ্যাপক। ১৯৭২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেই শুরু করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের আনুকূল্যে বিশেষ গবেষণা প্রোগ্রাম১৯৮২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন বটে, কিন্তু গবেষণাতে ছেদ পড়েনি। ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন এবং গবেষণাতে অংশ নিয়েছেন। তাঁর গবেষণা পত্রের সংখ্যা চারশোরও বেশি। প্রায় পঞ্চাশ জন ছাত্রছাত্রী তাঁর কাছে কাজ করে ডক্টরেট উপাধি পেয়েছে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, তাঁরা সবাই অধ্যাপিকা চট্টোপাধ্যায়কে ‘মাস্টার’ বলে ডাকতেন।  
       তাঁর গবেষণার পথ মোটেই সহজ ছিলনা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন তিনি পড়ানো ও গবেষণা শুরু করেছিলেন, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে সুযোগসুবিধা বিশেষ ছিল না। আর্থিক অসুবিধা তো ছিলই। গবেষকদের বৃত্তি ছিল দুর্লভ, ফলে প্রায় সব ছাত্রই আংশিক সময়ে কাজ করতেন। তাঁর প্রথম যুগের ছাত্র সত্যেশচন্দ্র পাকড়াশি লিখেছেন তিনি যখন অধ্যাপিকা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে কাজ শুরু করেন, তখন তিনিই ছিলেন তাঁর একমাত্র সর্বসময়ের ছাত্র, বৃত্তি ছিল দেড়শো টাকা। পক্ষান্তরে অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণাগারের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র তিনশো টাকা। গবেষণার জন্য তাঁদের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বোস ইনস্টিটিউট বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগগুলির উপর নির্ভর করতে হত।
       এত প্রতিকূলতার মধ্যে অসীমা চট্টোপাধ্যায়কে কাজ করতে হয়েছিল। তার মধ্যেও ১৯৬১ সালে তিনি ভারতীয় বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড়ো সম্মান ভাটনগর পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে হয়েছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি। তাঁর আগে কোনো মহিলা এই সম্মান লাভ করেন নি। ১৯৬০ সালে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স আকাদেমির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে পদ্মভূষণ সম্মান লাভ করেন১৯৮২ সালে রাজ্যসভার সাম্মানিক সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন, ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি সদস্য ছিলেন
       বহু বিখ্যাত বিজ্ঞানীর স্নেহ লাভ করেছিলেন অসীমা। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর গবেষণার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত দশ বছর তিনি গবেষণাতে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর সাহায্য পেয়েছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ পদার্থবিদ হিসাবে সুবিদিত, কিন্তু রসায়নে তাঁর আগ্রহ সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা প্রচলিত নেই। সত্যেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরে জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকাতে এক প্রবন্ধে রসায়ন বিষয়ে তাঁর গবেষণার উপর আলোকপাত করেছিলেন অসীমা চট্টোপাধ্যায়। বিদেশে যাওয়ার সময় সত্যেন্দ্রনাথই তাঁর গবেষণাগারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অসীমা নিজেই লিখেছেন যে ১৯৬৭ সালে চারমাসের মধ্যে যখন তাঁর বাবা ও স্বামী মারা গিয়েছিলেন, তখন সত্যেন্দ্রনাথ তাঁর বাবার স্থান অধিকার করে তাঁকে মানসিক শান্তি দিয়েছিলেন।  ক্যালটেকে থাকার সময় তিনি বিখ্যাত বিজ্ঞানী দু’বার নোবেল পুরস্কার জয়ী লাইনাস পাউলিঙের সাহচর্য পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সৌহার্দ্য পাউলিঙের মৃত্যু পর্যন্ত বজায় ছিল। বিজ্ঞান জগতের বাইরে আর একজন মানুষ তাঁর গবেষণা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। ভারত সরকার যখন প্রস্তাব দিয়েছিল যে জমি পেলে তাঁর গবেষণার জন্য আয়ুর্বেদ হাসপাতাল তৈরি করে দেবে, তখন জ্যোতি বসুই নামমাত্র ভাড়ায় সল্ট লেকে জমির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত মনে পড়ে আর একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিজ্ঞান কলেজে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন, তখন অধ্যাপিকা চট্টোপাধ্যায়কে দেখতে পেয়ে মঞ্চ থেকে নেমে তাঁকে নমস্কার করেন।
       অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণার খুব সংক্ষিপ্ত পরিচয় আমরা এর পরেই দেখব, তার আগে বলি তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা। বিদেশী এক ওষুধ কোম্পানি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যালের কাছে পেটেন্ট আইন ভঙ্গের জন্য মামলা করে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলআদালতে বিশেষজ্ঞ হিসাবে দিনের পর দিন বেঙ্গল কেমিক্যালের হয়ে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন তিনি। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মৃত্যুর পরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন অধ্যাপিকা চট্টোপাধ্যায়১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ পদে ছিলেন। ১৯৮৩ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি ছিলেন পরিষদের উপদেষ্টা। বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদে তাঁর অবদান নিয়ে অধ্যাপিকা সুমিত্রা চৌধুরী জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকায় আলোচনা করেছেন।
       সাধারণ মানুষের মধ্যে ভেষজ উদ্ভিদের গুরুত্ব প্রচারে তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। কালীপদ বিশ্বাস ও বিজয়কালী ভট্টাচার্য রচিত ‘ভারতীয় বনৌষধি’ বইটি তাঁরি সম্পাদনায় সংস্কার ও পরিবর্ধন করে ছয় খণ্ডে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীকালে ১৯৯২ থেকে ২০০১ সালে কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ছয় খণ্ডে ‘The Treatise of Indian Medicinal Plants’ প্রকাশ করেছিল মূল সম্পাদক ছিলেন অসীমা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ছাত্র সত্যেশ চন্দ্র পাকড়াশি।

       সবশেষে আসি তাঁর গবেষণার কথায়। স্বাভাবিক ভাবেই সে সম্পর্কে বিশদ আলোচনার সুযোগ এই নিবন্ধে নেই। কিন্তু একটা কথা খুবই স্পষ্ট, তাঁর গবেষণাও কিন্তু সমাজ বিচ্ছিন্ন বিজ্ঞানীর গজদন্ত মিনারে বসে কাজ নয়। যে বিজ্ঞানীরা আমাদের দেশে উচ্চতর গবেষণার ফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের নাম তাঁদের মধ্যে প্রথম সারিতে থাকবে। একটা উদাহরণ দেখা যাক। শুষনি শাক থেকে তিনি এক নতুন যৌগ মারসিলিন নিষ্কাশন করেন। তাঁর ভাই সরসীরঞ্জনের সঙ্গে যৌথ গবেষণাতে তিনি দেখান যে এই যৌগ মৃগীরোগের উপশমে সাহায্য করে। করে তাঁর আয়ুষ-৫৬ মৃগীরোগের ওষুধ এবং আয়ুষ-৬৪ ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই ভারত সরকার আয়ুর্বেদ হাসপাতালের মঞ্জুরি দেন, যে কথা আগেই বলেছি।
       অসীমা প্রাকৃতিক যৌগ নিষ্কাশন ও তাদের আণবিক এবং ত্রিমাত্রিক গঠন নিরূপণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষজ্ঞের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তাঁর ছাত্র কালীপ্রসন্ন ধারাকে বিদেশ এক বিখ্যাত বিজ্ঞানী বলেছিলেন যে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তাঁরা অধ্যাপিকা চট্টোপাধ্যায়ের গবেষণার দিকে নজর রাখতেন, কারণ তাঁরা জানতেন যে ভেষজ যৌগের প্রস্তাব তাঁরা করবেন, অসীমা তা নিষ্কাশন করে দেখাবেন। বিশেষ করে ইন্ডোল উপক্ষারঘটিত যৌগের বিষয়ে তাঁর গবেষণা সারা পৃথিবীতে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। হাঁপানি রগে ব্যবহৃত এফিড্রিন যৌগ বিষয়ে তাঁর গবেষণা স্নাতক স্তরের বইতে স্থান পেয়েছে। সর্পগন্ধা, জেটামানসি, ছাতিম সহ আরো নানা ভেষজ উদ্ভিদ থেকে তিনি বহু যৌগ নিষ্কাশন করেছিলেন, তাদের গঠন নির্ধারণ করেছিলেন, এবং ক্যানসার, হৃদরোগ, মৃগী, হাঁপানি, ম্যালেরিয়া সহ বিভিন্ন রোগে তাদের কার্যকারিতা বিষয়ে গবেষণা করেছিলেন।  
       অসীমা চট্টোপাধ্যায় একবার বলেছিলেন যতদিন তিনি বাঁচবেন, কাজ করে যেতে চান। তাঁর এই ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছিল। মৃত্যুর কয়েকমাস আগে পর্যন্ত তিনি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৬ সালের ২২শে নভেম্বর তাঁর প্রয়াণ ঘটে। তাঁর গবেষণাপত্রের তালিকাতে শেষ সংযোজন ঘটে ২০০৭ সালে।  ভারতীয় মার্গসঙ্গীত বিষয়ে তিনি উৎসাহী ছিলেন, চোদ্দ বছর ধ্রুপদ ও খেয়াল শিখেছিলেন। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণার কাজে গিয়েছিলেন, রামকৃষ্ণ মিশনের থেকে নানাভাবে সাহায্য পেয়েছিলেন। আমৃত্যু মিশনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলিতে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে কিছু লেখার তাঁর ইচ্ছা ছিল, তা আর পূরণ হয়নি।

       লেখাটি তৈরি করতে অনেকের সাহায্য লেগেছে। জ্ঞান ও বিজ্ঞান পত্রিকার মে ২০১৭ সংখ্যায় অধ্যাপিকা অসীমা চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে কয়েকটি মূল্যবান নিবন্ধ লিখেছেন কালীপ্রসন্ন ধারা, সুমিত্রা চৌধুরী, দীপক ভট্টাচার্য এবং স্মরজিত চট্টোপাধ্যায়। সৃষ্টির একুশ শতক পত্রিকার মে ২০১৭ সংখ্যায় তাঁর সম্পর্কে লিখেছিলেন মানস প্রতিম দাস। ভারতের মহিলা বিজ্ঞানীদের নিয়ে  এ যুগের কিশোর বিজ্ঞানী পত্রিকার মে-জুন ২০১৬ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে অধ্যাপিকা চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে কলম ধরেছিলেন সরোজকুমার রায়। অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের ছাত্র অধ্যাপক কালীপ্রসন্ন ধারার স্মৃতিচারণা শোনার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে। অধ্যাপিকা জুলি বন্দোপাধ্যায়ের কাছেও তাঁর মায়ের বিষয়ে কিছু কথা শুনেছিলাম। তাছাড়াও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স আকাদেমির ফেলোদের যে জীবনী প্রকাশিত হয়, সেখানে তাঁর মায়ের জীবন এবং গবেষণার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে তিনি লিখেছিলেন। ভারতীয় মহিলা বিজ্ঞানীদের নিয়ে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স আকাদেমি প্রকাশ করেছে Lilavati’s Daughters, সেখানে তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন সত্যেশ চন্দ্র পাকড়াশি তাঁদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। 

প্রকাশঃ চিন্তাভাবনা শারদীয় সংখ্যা ১৪২৪